গঙ্গা থেকে চিনশা ৭: ওল্ড টাউন ওল্ড নয়


অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়: ‘এক চরম নির্মম তামাশা চলছে আজকের লিচিয়াং ওল্ড টাউনে। শহর জুড়ে টুরিস্ট টানতে,সমস্ত দোকানে, রেস্তোরাঁয় যারা নাশি পোশাক পরে বসে আছে, তার কেউই নাশি নয়। সবাই হান!’

খুনমিং এর প্রধান রেল স্টেশন প্রকাণ্ড। এতদিন জানা ছিল এমন দৈত্যাকার ব্যাপার স্যাপার বোধহয় কেবল সোভিয়েত ইউনিয়নেই তৈরি হয়েছিল। এখন দেখলাম আকারে এবং প্রকারে তাদের ছাড়িয়ে গেছে চিন। ট্রেন চাপার নিয়মকানুন বেশ ভালো লাগল। অনেকটা প্লেনে চাপার মতোই পদ্ধতি। প্রথমে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট দেখিয়ে স্টেশনে প্রবেশ। তারপর নিরাপত্তা বলয় পার হওয়া। তারপর বসে থাকা এক বিশাল ওয়েটিং হল-এ। খাবার এবং ট্রেনে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকান রয়েছে এই হল –এ। তারপর ট্রেন ছাড়ার ঠিক মিনিট ১৫ আগে নির্দিষ্ট গেট দিয়ে প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ। তখন আরও একবার টিকিট পরীক্ষা। এরপর নির্দিষ্ট কামরার সামনে যখন আপনি পৌঁছবেন, দেখবেন দাঁড়িয়ে আছেন আর একজন। ইনি সেই কামরার দায়িত্বে থাকা কর্মচারী। ওঁর কাজ কেবল টিকিট দেখা নয়, ট্রেন ছাড়লে দরজা বন্ধ করা, খাবার বিক্রি, খাওয়া হয়ে গেলে জঞ্জাল পরিষ্কার, কোনও স্টেশন এলে টয়লেটের দরজা বন্ধ করে দেওয়া, নির্দিষ্ট সময়ে কামরার আলো নিভিয়ে দেওয়া এবং শেষে আপনার গন্তব্য স্টেশন এলে দরজা খুলে তার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা। আমার বুকিং ছিল সাধারণ স্লিপার ক্লাসে। তা সেই সাধারণ স্লিপার দেখলাম অনেকটা আমাদের দুরন্ত এক্সপ্রেসের এসি টু-টায়ার এর মতো। কেবল ঘটা করে খাবার দেবার বালাই নেই। ঘণ্টা আটের আরামদায়ক জার্নি। ভোরের আলো ফোটার আগেই লিচিয়াং। এখানেও যথারীতি আর এক প্রকাণ্ড স্টেশন।

একটা মারুতি ভ্যানকে কয়েক সাইজ বড় করে দিলে যেমন হয়, সেরকম একগাদা নীল রঙের গাড়ি দাঁড়িয়ে ছিল স্টেশন চত্বরের বাইরে। এরাই শেয়ার ট্যাক্সি লিচিয়াং শহরের। সাত-আট জন, আবার কখনও দশ জনও দিব্যি এঁটে যায় এই গাড়িতে। এই গাড়িতে চেপে আমার অবিকল কেনিয়া কিংবা তানজানিয়ার মাটাটু তথা ডালাডালা-র কথা মনে পড়ছিল। অবশ্য সেই গাড়িগুলোও তো সব মেড ইন চায়না-ই দেখেছিলাম! আমার বুকিং করা ছিল লিচিয়াং ওল্ড টাউনের এক ব্যাকপ্যাকার হোস্টেল-এর ডরমিটরি-তে। ওল্ড টাউনের বেশির ভাগ রাস্তায় গাড়ি ঢোকা নিষিদ্ধ। তাই ট্যাক্সি আমায় নামিয়ে দিল কাছের এক পেট্রোল পাম্পের সামনে। দুই কাঁধে দুই স্যাক চাপিয়ে আমি ঢুকে পড়লাম লিচিয়াং ওল্ড টাউন। চারদিকে পাহাড়, তাদের কয়েকটার মাথায় আবার বরফের চাদর, আর সেই সঙ্গে এক মনোরম মুচমুচে আবহাওয়া। মনে হল, ঠিক যেন পা রাখলাম হিমালয়ের কোন জনপদে। ৭২০০ ফুট উচ্চতাটাই বা কম যায় কোথায়! বড় রাস্তা ছেড়ে ওল্ড টাউনে ঢুকতেই আবার নাটকীয় দৃশ্যান্তর। যেখানে আমায় ট্যাক্সি নামিয়ে দিয়েছিল সেটা একটা ফোর লেনের ব্যস্ত রাস্তা। আর রাস্তা পার হয়ে গলিতে পা রাখতেই মনে হল পৌঁছে গেছি হাজার বছর আগে। ঠিক যেন টাইম ট্রাভেল! পাথরে বাঁধানো সরু গলি আর তার দুপাশে সার দিয়ে ছোটছোট চকোলেট রঙের কাঠের বাড়ি, স্লেট পাথরের চাল, চালের কোনাগুলো অদ্ভুত ভাবে বাঁকানো। কিছুটা প্যাগোডা গোছের বলা যেতে পারে। অদ্ভুত এক অনুভূতি হচ্ছিল। একটা একটা করে দোকান খুলছিল। বিচিত্র নাশি জ্যাকেট পরে আমার সামনে হাঁটছিলেন এক বৃদ্ধা। পাথর বাঁধানো পথ বেশ পিছল সকালের শিশিরে। সাবধানে পা ফেলে হাঁটতে গিয়ে চোখ বলছিল পৌঁছে গেছি ৮০০ বছর আগের কোন সময়ে। মন বলছিল এ সত্যি নয়, ইন্দ্রজাল। মনে হচ্ছিল, এই বুঝি মোঙ্গোল অশ্বারোহীর দল সিচুয়ান সীমান্তে যুদ্ধ সেরে ফিরবে নগরে। পাথরে বিছানো রাস্তায় আগুনের ফুলকি ছিটোবে তাদের ঘোড়ার দল। সত্যিই তো একসময় এসেছিল তারা!

১২৫৩-এ কুবলাই খানের বাহিনী, পাশের রাজ্য সিচুয়ানে ঘাঁটি গেড়ে বসে থাকা চিনা সৈন্যদলকে কোণঠাসা করতে দখল করেছিল এই নাশি সাম্রাজ্য। লিচিয়াং-এর নাশি রাজা বিপদ বুঝে কথা বাড়াননি। বশ্যতা স্বীকার করে নিয়েছিলেন তাদের। ধ্বংস থেকে রক্ষা পেয়েছিল তাদের শহর এবং সভ্যতা। দুর্ধর্ষ মঙ্গোলদের হাত থেকে যে শহর বেঁচে গিয়েছিল, কালচারাল রেভলিউশন তাকে রেহাই দেয়নি। আজকের রাজনৈতিক মানচিত্র অনুযায়ী যা চিন, সেখানে একসময় বহু স্বতন্ত্র, সভ্য, সাম্রাজ্যের অস্তিত্ব ছিল। ২০০০ বছরের রাজতন্ত্র এবং তার অবসানে পিপলস রিপাবলিক গঠন হবার পরও, সমগ্র চিন জুড়ে এরকম ৫৬ টি অঞ্চলকে স্বতন্ত্র জাতি-র (ন্যাসনালিটি) সরকারি ভাবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। লিচিয়াং এবং সেখানে বাস করা নাশি-রা ছিল সেই স্বীকৃত জাতিগুলির একটি। কমিউনিস্ট শক্তি এই শহরের দখল নেয় ১৯৪০ এর দশকে। আর কফিনে শেষ পেরেকের মতো আসে কালাচারাল রেভলিউসনের ঢেউ। নাশি-দের ভাষা, লিপি, ধর্মচারণ পদ্ধতি, সঙ্গীত, সবকিছু বিজ্ঞানসম্মত ভাবে মাটিতে মিশিয়ে দেওয়া হয়। কোনও একটা জাতির নিজস্ব অস্তিত্ব, পরিচয় চিরতরে ধ্বংস করতে প্রথমে কীভাবে তার মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে হয়, এবং তারপর তার মাথা কেটে মিউজিয়ামে সাজিয়ে রাখতে হয় তা চিনারা দেখিয়ে গেছে। হিটলার এদের কাছে শিশু।

শহরটার যেটুকু অবশিষ্ট ছিল, ১৯৯৬ এর এক ভয়াবহ ভূমিকম্পে তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। শোনা যায় রিখটার স্কেলের মাত্রা ছিল সাত। তাই আজকের লিচিয়াং ওল্ড টাউন আসলে ‘ওল্ড’ নয়। বিশ্ব ব্যাঙ্কের অর্থে আবার গড়ে ওঠে লিচিয়াং। ১৯৯৯-এ ইউনেস্কোর কাছ থেকে ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট’ এর স্বীকৃতি পায় সে। সাজিয়ে তোলা হয় ছবির মতো করে। যা কিছু আজকের চিনে নিশ্চিহ্ন কালচারাল রেভলিউসনের কল্যাণে, তাকেই আবার ফিরিয়ে আনার চেষ্টা সমাজে। এই প্রায়শ্চিত্ত হাস্যকর, কারণ সেই চেষ্টা এমন এক শহরে যা কোনওদিনই ছিল না চিনের নিজস্ব। হান-দের তো নয়ই। ফলে এই লিচিয়াং ঠিক যেন এক অ্যামিউজমেন্ট পার্ক। একবারে প্রস্তুত ফোটোগ্রাফার এবং সিনেমাটোগ্রাফার-দের জন্য। ‘ক্রাউচিং টাইগার হিডেন ড্রাগন’ দেখেছেন? হ্যাঁ, অবিকল সেই সেট। কিন্তু, নাশি-রা কোথায়? তাদের অন্তত দুটো প্রজন্মকে তো ভ্যানিশ করে দেওয়া হয়েছে। অল্পসংখ্যক যারা বেঁচে আছে তারা আশি- নব্বইয়ের কোঠায়। ইউনেস্কো ‘ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ’-এর লেবেল লাগাতে পারবে, নাশি-দের তো আর ফিরিয়ে আনতে পারবে না! আর তাই এক চরম নির্মম তামাশা চলছে আজকের লিচিয়াং ওল্ড টাউনে। শহর জুড়ে টুরিস্ট টানতে,সমস্ত দোকানে, রেস্তোরাঁয় যারা নাশি পোশাক পরে বসে আছে, তার কেউই নাশি নয়। সবাই হান!

যাই হোক, চিনে সংখ্যালঘু নিধন যজ্ঞ শুরু হবার ঠিক আগের কয়েক হাজার বছর ধরে লিচিয়াং ছিল নাশি সাম্রাজ্যের প্রাণকেন্দ্র। একদিকে দক্ষিণে তা-লি সাম্রাজ্য হয়ে আজকের মায়ানমার তথা বার্মা, অন্যদিকে, তিব্বতের লাসা হয়ে, চুম্বি উপত্যকার পথে কালিম্পং হয়ে কলকাতার সঙ্গে ছিল তার নিয়মিত বাণিজ্যিক আদান প্রদান। পিটার গোলার্ট ‘ফরগটেন কিংডম’-এ লিখে গিয়েছেন তাঁর নিজের চোখে দেখা কালিম্পং থেকে লিচিয়াং চলাচল করা বিশাল ঘোড়ার ক্যারাভানের কথা। তখন কলকাতা থেকে বাণিজ্যের পসরা প্রথমে পৌঁছত কালিম্পং। সেখান থেকে চুম্বি উপত্যকার পথে লাসা হয়ে লিচিয়াং-এর বাজারে এই ক্যারাভান পৌঁছতে সময় লাগত ঠিক তিন মাস। নিত্য প্রয়োজনীয় সব কিছুই আসত এই সব ক্যারাভানে, সিগারেট থেকে মাথা ধরার ট্যাবলেট, কিছুই বাদ যেত না। তারও কয়েক হাজার বছর আগে থেকেই মালদ্বীপের কড়ি বাংলার বন্দর হয়ে তিব্বতের পথে পৌঁছে যেত ইউনানের এই প্রত্যন্ত প্রান্তে। কড়ি দিয়ে কেনাবেচার প্রচলন একসময় তাই এখানেও ছিল। পরে অবশ্য তা নিছকই গয়নাগাটি এবং ঘর সাজানোর উপকরণে পরিণত হয়। বার্মা সীমান্ত থেকে তা-লি, লিচিয়াং, তেছেন হয়ে একটা পথ যেমন গিয়েছিল তিব্বত, তেমন আর এক পথ গিয়েছিল পেইচিং। এই পথই এক সময় ‘টি এন্ড হর্স রুট’ নামে পরিচিত হয়। ইউনানের বিখ্যাত ফু-আর’ চা এই পথেই পৌঁছে যেত একই সঙ্গে লাসা-র পোতা-লা প্রাসাদ এবং পেইচিং এর রাজসভায়। তিব্বতের পথে নিয়মিত বাণিজ্যের আগেও অবশ্য বার্মা মুলুকের মধ্য দিয়ে বাংলা (আর সেই সূত্রে ভারত)-র সঙ্গে যোগাযোগ ছিল এই সব নগরের। আফগানিস্তান থেকে চিন, আজকে যা সিল্ক রুট নামে বিখ্যাত, সেই পথ একসময় দুর্গমতা, ডাকাত এবং হান বিরোধী শিয়ংনু-দের  উৎপাতের জন্য প্রায় বন্ধই হয়ে গিয়েছিল হান সাম্রাজ্যের কাছে। সেই সময়েও কিন্তু নাশি এবং তা-লি সাম্রাজ্যের সঙ্গে ভারত ভূখণ্ডের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল ‘তিয়ান’ (বার্মা, তথা মায়ানমার) প্রদেশের মধ্য দিয়ে। পণ্য এবং সংস্কৃতির আদান প্রদান ছিল মুক্ত। তাই, কেবল মুদিখানার সামগ্রী নয়, এই পথে লিচিয়াং এবং তার পাশের রাজ্য ‘তা-লি’ তে এসেছিল ভারতের জ্ঞান, এসেছিল বৌদ্ধ ধর্ম। তা-লি-র রাজারা তো রীতিমতো ছিলেন সম্রাট অশোকের ভক্ত! তবে সে প্রসঙ্গ অন্য।

এই ‘দখিনি বর্বর’-দের (এই নামেই ইউনানের অধিবাসীদের ডাকত চিনের মানুষ) দেশের মধ্য দিয়ে কি সত্যিই ভারতবর্ষের সঙ্গে যোগাযোগ সম্ভব? কানাঘুষো শোনা যেত। তা যাচাই করার জন্যই, যিশু খৃষ্টের জন্মের ১২২ বছর আগে চিন সম্রাট এক বাহিনী পাঠিয়েছিলেন তার হান সাম্রাজ্যের দক্ষিণ সীমান্তে। খোঁজ নিয়ে জানা গিয়েছিল কথাটা সত্যি। হান সম্রাটের এই কানাঘুষোকে গুরুত্ব দেবার কারণ স্বয়ং হান রাজসভার অভিযাত্রী চাং ছিয়েন। কয়েক বছর আগেই উত্তরের বিপজ্জনক পথে (পরে যা সিল্ক রুট নামে পরিচিত হয়), শিনচিয়াং এর মরুভূমি, পামির পর্বত মালা পার হয়ে, আমু দরিয়া-সির দরিয়া নদী ছুঁয়ে, প্রথমে ফরঘনা (আজকের উজবেকিস্তানের পুর্ব অঞ্চল) এবং শেষে ব্যাক্ট্রিয়া (আজকের উত্তর আফগানিস্তান) পৌঁছেছিলেন চাং ছিয়েন। সেখানে শুনেছিলেন সুদূর এক রাজ্য সিন্ধু-র (ভারতবর্ষ) কথা। আরও শুনেছিলেন সেখানকার রাজারা নাকি হাতি চেপে যুদ্ধে যায় আর জাহাজ ভাসিয়ে পাড়ি দেয় সমুদ্র পাড়ের অজানা প্রদেশ। দেখেশুনে চমকে উঠেছিল চাং ছিয়েন এর হান গৌরব। সভ্যতার শিখরে তারা তাহলে একা নন! এমন কি এও মনে হয়েছিল যে , হান-রা যাকে শিখর ভাবে তা পর্বতের না হয়ে একটা টিলারও হতে পারে! তবে চাং ছিয়েন এর কাছে সবথেকে বড় চমক ছিল অন্য। আফগানিস্তানের বাজারে তিনি দেখেছিলেন সিচুয়ান প্রদেশে তৈরি কাপড় এবং বাঁশের পণ্য। চিন থেকে সরাসরি এখানে আসার অন্য কোন রাস্তাই তো সেদিন জানা ছিল না, তাই চাং ছিয়েন জানতে চেয়েছিলেন সেই দোকানির কাছে, কোথা থেকে পেল সে এই চিনা সামগ্রী? উত্তর শুনে আবার অবাক হবার পালা। সমস্ত চিনা পসরাই নাকি এসেছে ভারতবর্ষ থেকে! তাহলে কি সিচুয়ানের দক্ষিণ দিকে লুকিয়ে আছে এই পথের রহস্য? ভেবেছিলেন চাং ছিয়েন। আর সেই সূত্র ধরেই সম্রাট পাঠিয়েছিলেন তার বাহিনী দখিনি বর্বরদের দেশে। ভারতবর্ষের সম্বন্ধে কৌতূহল এবং তার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপনের বাসনা তাই চিরকালই ছিল চিনের। লক্ষ্য ছিল চিনের মূল ভূখণ্ড থেকে সরাসরি বঙ্গোপসাগরে পৌঁছনোর এক নিরাপদ রাস্তা খুঁজে বার করার। প্রকৃতি এবং রাজনীতির বাধায় তা কোনদিনই হয়ে ওঠেনি। মজার ব্যাপার হল, আজ ২০০০ বছর পরে, আধুনিক চিনের (পড়তে হবে ‘হান সাম্রাজ্যের নতুন অবতার’) সেই সহস্রাব্দ প্রাচীন স্বপ্ন সত্যি হতে চলেছে। ইউনানের খুনমিং থেকে লিচিয়াং, তা-লি ঘেঁষে মায়ানমার প্রবেশ করতে চলেছে চীনের রেলপথ। অদূর ভবিষ্যতে, পেইচিং থেকে একই ট্রেনে চেপে এক চিনা ব্যবসায়ী হয়তো পৌঁছে যাবে বঙ্গোপসাগরের তীরের কোনও বন্দরে। প্রশ্ন হল, সেই যুগান্তকারী সংযোগ কি কেবল বাণিজ্যেই থেমে থাকবে?

 

শব্দ ও ছবি: অনিন্দ্য মুখোপাধ্যায়


লেখকের পরিচয়: প্রথম ভারতীয় হিসেবে সাহারা মরুভূমি একা সাইকেলে পার করা সুলেখক অনিন্দ্য একজন অভিযাত্রী। যাঁর অভিযান শুধু পাহাড়, নদী, জঙ্গলে নয়, মানুষের অজ্ঞানতায়ও। সেই অজ্ঞানতার অঞ্চল অভিযানে কখনও অনিন্দ্য়র দেখা হয়েছে ভূগোল বইয়ের সঙ্গে, কখনও অনিন্দ্য পথ হেঁটেছেন নৃতত্ত্বের হাত ধরে, কখনও বা তাঁর সফর সঙ্গী হেয়েছে মাতৃ বা অমাতৃভাষার কোনও সাহিত্য। আজ গ্রিনল্য়ান্ড, কাল চিন, পরশু রাশিয়া ছোটা অনিন্দ্য এখনও বুঝে উঠতে পারেননি, কোনটা ঘর, আর কোনটা বাইরে। তাই অনিন্দ্য এখনও তালার ব্যবহার জানেন না। তাঁর দরজা সর্বদাই খোলা। চৌকাঠ পেরনোর অপেক্ষায়।

Facebook: Anindya Mukherjee

Twitter: Tuaregraja

Email: anindya.adventuremania@gmail.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *