জড়োয়ায় ঝলসে উঠল মণিকর্ণিকা

রাজর্ষি মুখোপাধ্যায়: শিলাব্রত, শৌভিক, অমিতদের সমবেত ফটোওয়াক এর আকর্ষণকে কোনভাবেই পাশ কাটাতে পারলাম না। হাতে সময় মাত্র চারদিন। টানছিল বেনারসের ঘাট, প্রাগৈতিহাসিক শহরের বিচিত্র মানুষজন, আলোআঁধারি গলি, আশ্চর্য লস্যি, অপূর্ব সন্ধ্যারতি এবং সর্বোপরি আলোর উৎসব দেব দীপাবলি। গতবছর নভেম্বর মাসের ৪ তারিখ ছিল উৎসবের ঘোষিত দিন। পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন শহরটির ঘাটে হাজারো দর্শনার্থীর সমাগম, আলোর রোশনাইয়ের মধ্যেও চোখে পড়েছিল না দেখা কিছু মুহূর্ত।

অন্ধকারের উৎস হতে উৎসারিত আলো- সেই আলোতেই সকল কালিমা নাশ। তাই দীপ জ্বলে উঠেছে ঘাটে ঘাটে।
পবিত্র গঙ্গার বুকে এ ঘাট ও ঘাট ছুঁয়ে যায় এইসব নৌকাদল। শুনে নেয় ঘাটের মর্মকথা। একাকী মানুষের বাঙ্ময় প্রতীক্ষা অনন্য ক্যানভাস হয়ে ওঠে।
সত্যজিৎ রায় হোক বা রঘু রাই – বেনারসের ফ্রেমে ধরা পরে কত কিছুই না ! বিপুলায়তন ষাঁড়, সারবাধা নৌকা, বয়ে চলা গঙ্গা – শিল্পী যেন তাঁর অতুলনীয় মুন্সিয়ানায় সাজিয়ে রেখেছেন শহরের হরেক ঘাট।
দেব দীপাবলি উৎসব ঘিরে কত মানুষের কত আশা, কত আনন্দ। ঘাটে এভাবেই মিশে যায় বিচিত্র জীবন। এখানে রঙিন সাজে উপার্জনের আশায় হাজির রঙিন শৈশব।
পবিত্র মন্ত্রোচ্চারণে হোক সূর্যোদয়। কেদার ঘাটে পাওয়া গেল সেই পুণ্য মুহূর্তও।
জীবন এখানে থেমে থাকেনা। প্রতিদিনের অভ্যাসে, স্বাভাবিক চলাচলে সদাব্যস্ত বেনারসের ঘাট। ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে পূজার আয়োজনে ঘাটে হাজির বৃদ্ধা পূজারিণী।
শোনা যায় বেনারসের মোট ঘাট সংখ্যা ৩৬৫। এক একটা ঘাটের এক এক রকম গল্প। প্রকৃতি আলাদা, আলাদা সব মানুষ। নানা ধর্মের মানুষ এখানে, জীবন এখানে বিচিত্র।
বেনারসের বহুচর্চিত সন্ধ্যারতিতে একপ্রাণ, একমন পুরোহিত। অগনিত ক্যামেরার ঝলসানি, হাজারো দর্শনার্থীর কোলাহলেও অবিচলিত অভিজ্ঞ হাত।
উৎসবের রাতে হাজারো দীপের আলোর মাঝে অন্তরের প্রার্থনাটুকু তাঁর কাছে পৌঁছে দিতে বিনম্র প্রয়াস।

লেখা ও ছবি: রাজর্ষি মুখোপাধ্যায়


লেখকের পরিচয়: দমদম ক্যান্টনমেন্ট-এর বাসিন্দা। স্কুলের গণ্ডী পেরিয়ে প্রেসিডেন্সি কলেজ থেকে স্নাতক। বর্তমানে শহরতলির  ইশকুলে বাংলা পড়ান। শখের মধ্যে গান শোনা, ভ্রমণ আর সময় পেলে ক্যামেরা গলায় বেরিয়ে পড়া।

Email: rajarshi.papa75@gmail.com

2 thoughts on “জড়োয়ায় ঝলসে উঠল মণিকর্ণিকা

  • July 22, 2018 at 9:20 pm
    Permalink

    Darun sundor….
    Suvecha roilo.

    Reply
  • July 22, 2018 at 9:49 pm
    Permalink

    খুব ভাল লাগলো…. মন -ক্যামেরার লেখা ও সজীব রেখা -দুই ই

    Reply

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *